ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের সদরে বাংলা নববর্ষকে ঘিরে গ্রামীণ ঐতিহ্য, প্রাণের উচ্ছ্বাস আর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে উঠেছে সদর উপজেলার চর খরিচা এলাকা। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী উৎসব যেন পরিণত হয়েছে এক আনন্দঘন মিলনমেলায়। এ আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বহুল জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলা—রশি টানাটানি।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ৫নং সিরতা ইউনিয়নের চর খরিচা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গোলাম হোসেন সরকার স্মৃতি সংঘের উদ্যোগে এ ব্যতিক্রমী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় গ্রামীণ ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই মাঠে ভিড় জমাতে থাকেন নানা বয়সী মানুষ—শিশু থেকে প্রবীণ, নারী-পুরুষ সকলের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
রশি টানাটানি খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক উত্তেজনা। প্রতিটি দল জয়ের প্রত্যয়ে মাঠে নামলেও দর্শকদের উচ্ছ্বাস প্রতিটি মুহূর্তকে আরও রোমাঞ্চকর করে তোলে। শক্তি ও কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিযোগীদের প্রাণপণ লড়াই উপস্থিত সবার মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগায়।
চর খরিচা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ ফখর উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জোবায়েদ হোসেন শাকিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরানগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হানিফ সরকার, বর্ষবরণ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মোঃ আল মামুন এবং গোলাম হোসেন সরকার স্মৃতি সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মোঃ ফয়জুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজকরা জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ১৬টি দল অংশগ্রহণ করেছে। প্রথম দিনে ৮টি, দ্বিতীয় দিনে ৪টি এবং তৃতীয় দিনে ৪ দলের ২টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচ, যার মাধ্যমে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে।
বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। এসব খেলাকে টিকিয়ে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করতে এমন আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দিনব্যাপী এ আয়োজন শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং ছিল গ্রামীণ মানুষের মিলন, আনন্দ ও ঐক্যের প্রতীক। সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আরও সমৃদ্ধভাবে পৌঁছাবে।
সর্বশেষ