ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলায় তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও একটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার ঘটনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিলো। মোটরসাইকেল চালক মোবারক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার মেসার্স চৌধুরী ফিলিং স্টেশন কয়েক ঘণ্টা ধরে বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। মোটরসাইকেল চালক থেকে শুরু করে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা তেল না পেয়ে বিপাকে পড়েন। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে এবং স্থানীয়রা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এর প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম-এর দিকনির্দেশনায় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম নাজমুস ছালেহীন।
অভিযানকালে ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে পরে পেট্রোলের রিজার্ভ ট্যাংক পরীক্ষা করে দেখা যায়, সেখানে পর্যাপ্ত তেল মজুদ রয়েছে। অথচ কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই বিক্রি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল।
ভুক্তভোগীরা জানান, হঠাৎ করে ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ থাকায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
মোটরসাইকেল চালক সেলিম বলেন, “স্টেশনে এসে দেখি বন্ধ। অথচ পরে শুনি ভিতরে তেল ছিল। এটা আমাদের সাথে প্রতারণার মতো। জরুরি কাজে বের হয়েছিলাম, কিন্তু তেল না পেয়ে মাঝপথে বিপাকে পড়েছি।”
পরিবহন চালক আরিফ রব্বানী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে তেল মজুদ রেখে বিক্রি বন্ধ রাখলে সাধারণ মানুষই কষ্ট পায়। প্রশাসন না এলে হয়তো আজকেও তেল পেতাম না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অনেক সময় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশায় বা অতিরিক্ত লাভের উদ্দেশ্যে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে থাকে। তারাকান্দার এই ঘটনাটিও তেমন কোনো প্রচেষ্টার অংশ কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযান শেষে প্রশাসনের উপস্থিতিতেই পুনরায় তেল বিক্রি শুরু করা হয়। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনের মালিকপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে সহকারী কমিশনার ভূমি নাজমুস সালেহীন।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও তারা নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এভাবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারে।
সর্বশেষ