সারাদেশ

২৮ কোটির সড়কে থমকে কাজ, দুর্ভোগে হাওরবাসী

রানা খান, স্টাফ রিপোর্টার নেত্রকোনা। ০১ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন
news image

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরাঞ্চলের মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশিত গাগলাজুর-তেঁতুলিয়া আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজ যেন কচ্ছপগতির এক দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার ও উন্নয়নকাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাজের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। উল্টো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

রোববার (১ মার্চ) দুপুরে গাগলাজুর ইউনিয়ন ও তেঁতুলিয়া ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে নির্মাণাধীন সড়কের ওপর মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। তাদের দাবি—দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কের কাজ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ময়মনসিংহ মহানগর শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, “২০০২ সালে নির্মিত এই সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারহীন ছিল। অবশেষে ২০২৪ সালে ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। গত ২৫ ডিসেম্বর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। হাওরের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারছেন না। খারাপ রাস্তার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, ফলে তারা কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।”

তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শুরু ও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

ঢাকা কলেজ শাখার ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তপু বলেন, “দীর্ঘ দুই বছর ধরে রাস্তাটি অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে। আমরা সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাই।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও কাদা জমে যাচ্ছে, যা নিম্নমানের নির্মাণকাজের প্রমাণ। বর্ষা মৌসুমে হাওরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেলে এ সড়কই একমাত্র ভরসা। অথচ সেই সড়কই এখন দুর্ভোগের কারণ।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “নিম্নমানের কাজের অভিযোগ সঠিক নয়। বর্তমানে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ আছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু না হলে কার্যাদেশ বাতিলের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।”

দ্রুত গুণগত মান নিশ্চিত করে সড়ক নির্মাণ শেষ না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী।

সর্বশেষ