সারাদেশ
দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক সহিংসতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই গ্রামীণ নারীরা টেকসই কৃষির ধারাকে এগিয়ে নিচ্ছেন। খাদ্য নিরাপত্তা, লোকায়ত জ্ঞান, বীজসংরক্ষণসহ কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যার প্রতিটি ধাপে নারীর নীরব ও অদম্য ভূমিকা আজও গ্রামীণ অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
এসব বাস্তবতাকে সামনে রেখে “আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ” উপলক্ষে (২৭ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার পাহাড়পুর কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখন কেন্দ্রে কর্মশালা ও নবান্ন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলার ১১ গ্রাম থেকে ৪০ জন কিশোরী, নারী কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক এবং নানা পর্যায়ের প্রতিনিধি এ আয়োজনে অংশ নেন। কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন পাহাড়পুর কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক নারী নেত্রী ফৌওজিয়া নাসরিন।
উপস্থিত ছিলেন আটপাড়া উপজেলার গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির সহসভাপতি বৈশাখী চ্যানেলের সাংবাদিক মাকসুদুল হক, গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির অর্থ সম্পাদক ও (দৈনিক বঙ্গ সংবাদ) পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মোঃ রানা খান,
জেলা জনসংগঠনের সভাপতি সায়েদ আহমেদ খান বাচ্চু, নারীনেত্রী হিন্দা খানম, জেলে সংগঠক যোগেশ চন্দ্র দাস, বারসিক কর্মকর্তা মোঃ সুয়েল রানা,
বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমানসহ স্থানীয় নারী-পুরুষ ও যুবসমাজ।
কর্মশালায় কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা, জলবায়ু ন্যায্যতা, খাদ্যসার্বভৌমত্ব, নারীর লোকায়ত জ্ঞান, বীজ সংরক্ষণ, নারীর অধিকার, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারীর স্থাপত্যজ্ঞান, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পারিবারিক কৃষি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সাংবাদিক মাকসুদুল ইসলাম বলেন, “বীজ বাছাই, মাটির উর্বরতা রক্ষা এবং জলবায়ু-সহনশীল ফসল চাষে নারীর প্রথাগত জ্ঞান টেকসই কৃষিকে আরও শক্তিশালী করে। দুর্যোগের সময় খাদ্য সংকট দেখা দিলেও নারীরাই বিকল্প খাদ্য উৎস খুঁজে পরিবারকে নিরাপদ রাখেন।”
নারীনেত্রী ও তত্ত্বাবধায়ক ফৌওজিয়া নাসরিন বলেন, “সহিংসতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও গ্রামের বহু নারী কৃষিকাজ চালিয়ে যান। এতে শুধু তাদের জীবিকা নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিও টিকে থাকে। দলবদ্ধভাবে কাজের সুযোগ পেয়ে তারা জ্ঞান, উপকরণ ও সহায়তা বিনিময় করতে পারছেন—যা গ্রামীণ সংহতি জোরদার করছে।”
তিনি আরও বলেন, “নারীরা রাসায়নিক সার এড়িয়ে জৈব সার ও প্রাকৃতিক পদ্ধতির প্রতি আগ্রহী। এতে পরিবেশ ও মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে—যা টেকসই কৃষির মূল চাবিকাঠি।”
আয়োজনে বক্তারা বলেন, দুর্যোগ, সহিংসতা ও সামাজিক বৈষম্যের মাঝেও গ্রামীণ নারীদের দক্ষতা, শ্রম ও লোকায়ত জ্ঞান বাংলাদেশের টেকসই কৃষি ব্যবস্থাকে দৃঢ় ভিত্তি দিচ্ছে। ভূমি অধিকার, প্রযুক্তি সহজলভ্যতা ও নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে এই নারী যোদ্ধারা আরও সামর্থ্যবান হবেন—বাড়বে খাদ্য উৎপাদন, শক্তিশালী হবে গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বারসিকের কর্মসূচী কর্মকর্তা পার্বতী রাণী সিংহ।
সর্বশেষ