স্বাস্থ্য

দারিদ্র্য ও চিকিৎসাহীনতার ফলে নিভে যাচ্ছে জীবনের আলো

রানা খান, স্টাফ রিপোর্টার নেত্রকোনা ০১ নভেম্বর ২০২৫, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন
news image

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার অতিথপুর গ্রামের একটি কুঁড়েঘরে বাস করেন মা শাহানা খাতুন (৪৫) ও ছেলে কাজল মিয়া (২২)। দুজনের মুখ ও শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে একটি বিরল টিউমার, যা ধীরে ধীরে তাদের স্বাভাবিক জীবন কেড়ে নিচ্ছে। এমনকি বেঁচে থাকার আলোটুকুও ফিকে হয়ে আসছে।

একসময় প্রাণবন্ত মুখে হাসি ঝরতো কাজলের। কিন্তু এখন সেই মুখ পরিণত হয়েছে যন্ত্রণার প্রতীকে। জন্মের সময় মুখে ছোট একটি টিউমার থাকলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটি বিকৃত আকার ধারণ করেছে। এক চোখ ঢেকে গেছে এবং মুখের অর্ধেক বিকৃত হয়ে গেছে। মুখের নিচে বিশাল মাংসপিণ্ড ঝুলে পড়েছে, যা খাওয়া-দাওয়া ও কথা বলতেও অসুবিধা সৃষ্টি করছে।

মা শাহানা খাতুনও একই রোগে আক্রান্ত। গালের টিউমার বুক পর্যন্ত নেমে এসেছে এবং শরীরজুড়ে ছোট-বড় গুটি ছড়িয়ে পড়েছে। একসময়ের পরিশ্রমী নারী এখন অচলপ্রায় হয়ে পড়েছেন।

দৈনিক মজুরির টাকায় সংসার চালানো যেখানে কষ্টকর, সেখানে চিকিৎসার খরচের চিন্তা পরিবারের কর্তা মিরাজ আলীর কাছে অসম্ভব এক স্বপ্নের মতো। চোখের সামনে স্ত্রী-সন্তানের এই দুরবস্থা দেখে অসহায় এই পিতা দিন কাটান অনিশ্চয়তায়।

কাজল মিয়া কাঁপা কণ্ঠে জানান, “ছোটবেলায় কপালের পাশে ছোট একটি টিউমার ছিল। এখন সেটা এক চোখ ঢেকে ফেলেছে। মুখে কথা বলা যায় না, খাওয়াও কষ্টের। মানুষের কাছে হাত পেতে যা পাই তাই খাই। ইচ্ছে করে, যদি আবার স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারতাম।”

মা শাহানা খাতুন বলেন, “আমার তো জীবন শেষের পথে। কিন্তু ছেলেটার সামনে পুরো জীবন রয়েছে। টিউমার দিন দিন বাড়ছে। সরকারি সাহায্য পেলে হয়তো চিকিৎসা করানো যেত।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের আগেই শাহানার শরীরে ছোট ছোট টিউমার ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে বাড়তে প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। তিন সন্তানের মধ্যে শুধু মেঝো ছেলে কাজলই একই রোগে আক্রান্ত।

প্রতিবেশী আহমেদ শরীফ বলেন, “ওদের অবস্থা খুবই খারাপ। কেউ পাশে দাঁড়ালে হয়তো মা-ছেলে দুজনেই নতুন জীবন ফিরে পেত। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো সহায়তা তারা পাননি।”

দারিদ্র্য, অবহেলা ও চিকিৎসাহীনতায় প্রতিদিন নিভে যাচ্ছে এক পরিবারের স্বপ্ন। সরকারি বা মানবিক সহায়তা ছাড়া কাজল ও শাহানার জীবনে আলো ফেরানো সম্ভব নয়।

সর্বশেষ