কৃষি ও প্রকৃতি
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার ধানকুনিয়া হাওরের বেরিবাঁধ বর্তমানে মারাত্মক আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, হাওরের অধিকাংশ জমির ফসল এখনো কাটা সম্ভব হয়নি। এর মধ্যেই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির চাপে বাঁধের অনেকটা অংশ ভেঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জনৈক কৃষক বলেন, “অতিবৃষ্টির কারণে হাওরের ভেতরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় হাওরের নিচু জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বৃষ্টির পানির কারণে জমিতে অন্যান্য বছরের মতো ধান কাটার আধুনিক হারবেস্টার নামানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে ফসল কাটা নিয়ে বিপাকে হাওর পাড়ের কৃষকেরা।”
বৃহস্পতিবার (২৩এপ্রিল-২৬) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীতে পানির চাপ থাকায় সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের ধানকুনিয়া হাওরের বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন।
এ বাধ ভেঙে গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো হাওর পানিতে তলিয়ে যাবে। এতে করে হাওর পাড়ের মানুষের বছরের একমাত্র ফসলের সলিল সমাধি ঘটবে। সারা বছরের একমাত্র ফসল নষ্ট গেলে হাওর পাড়ের মানুষের জীবন, জীবিকা ও অর্থনীতির ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এলাকাবাসী জানান, ইতোমধ্যে নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে এবং পানির প্রবল চাপে বাঁধের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা।
এ অবস্থায় স্থানীয় জনগণ ও কৃষকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা উপজেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কার ও মেরামতের দাবি জানিয়েছেন, যাতে হাওর পাড়ের মানুষের স্বপ্নের সোনালী ফসল রক্ষা করে কৃষকের সারা বছরের খাদ্য সংকটে পড়তে না হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে কৃষকদের সম্ভাব্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবেন এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
সর্বশেষ