নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার বানিয়াজান ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে এক তরুণের আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রবিবার (১১ জানুয়ারি ২০২৫) ফজরের নামাজের পর স্থানীয়রা তার মরদেহ দেখতে পান।
নিহতের নাম মাহিবুর রহমান (৩২)। তিনি মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আঃ রহিমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত মানসিক চাপ ও হতাশায় ভুগছিলেন মাহিবুর। আত্মহত্যার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি একাধিক আবেগঘন পোস্ট দেন, যেখানে ভালোবাসা, পারিবারিক চাপ, সামাজিক অবিশ্বাস ও মানসিক কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তার লেখাগুলোতে তীব্র হতাশা ও একাকিত্বের প্রতিফলন ছিল।
ফজরের নামাজ শেষে এলাকার লোকজন ঘটনাস্থলে তার মরদেহ দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের মাহিবুর সম্প্রতি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। সম্পর্কজনিত জটিলতা ও সামাজিক চাপই তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয় বলে তাদের ধারণা।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো মির্জাপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে নেমে আসে নীরব বিষাদ।
এদিকে খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ জানায়, আত্মহত্যার কারণ উদঘাটনে নিহতের ফেসবুক পোস্ট, পারিবারিক অবস্থা ও সামাজিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক অবসাদ, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও সামাজিক চাপ তরুণদের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। সংকটময় সময়ে পরিবার ও সমাজের সহানুভূতিশীল মনোভাব মানসিক সহায়তা দিতে পারে, যা অনেক জীবনের বিপদ এড়াতে সহায়ক।