আইন-আদালত

হিরোইন উদ্ধার, মাদক সেবনের দায়ে ৩ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ | ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩২ অপরাহ্ন
news image

ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় মাদক নির্মূলে উপজেলা প্রশাসনের টাস্কফোর্স অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) দিনব্যাপী পরিচালিত অভিযানে মাদক সেবনের অভিযোগে তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই অভিযানে হিরোইনসহ আটক আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রাপ্ত অভিযোগ ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে কাকনী ইউনিয়নের বাঁশতলা এলাকায় ফারুকের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাদক সেবনরত অবস্থায় সেলিম ফকির, আবুল হাসেম ও মুসলিম ফকিরকে আটক করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্তদের দোষ স্বীকারোক্তি এবং উপস্থিত সাক্ষীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারায় সেলিম ফকিরকে ৬ মাস, আবুল হাসেমকে ২ মাস এবং মুসলিম ফকিরকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এদিকে একই অভিযানে ফারুক নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় ৪ গ্রাম হিরোইন উদ্ধার করা হয় বলে জানায় প্রশাসন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হিরোইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ময়মনসিংহের পরিদর্শক কানিজ ফাতেমাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম। সার্বিক সহযোগিতা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. নাজমুস ছালেহীন। অভিযানে তারাকান্দা থানা পুলিশের সদস্য, আনসার বাহিনী এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা অংশ নেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "তারাকান্দাকে মাদকমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।" তিনি মাদকসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে তারাকান্দাসহ ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান বৃদ্ধি পেলেও স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, শুধুমাত্র সেবনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেই মাদকের বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তাদের মতে, মাদকের মূল সরবরাহকারী ও সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সীমান্ত ও আন্তঃজেলা মাদক সরবরাহের রুট শনাক্ত করে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করলে মাদক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ফল পাওয়া যেতে পারে।



সর্বশেষ