সারাদেশ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ৫নং সমাজ সহিলদেও ইউনিয়নের সমাজ উচ্চ বিদ্যালয়ে কোচিং না পড়িয়েও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক কোচিং ফি আদায় এবং নির্দিষ্ট প্রকাশনীর গাইড বই কিনতে বাধ্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. হাদিস উদ্দিন তালুকদারের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
★—কোচিং না করিয়েও ৯০০ টাকা দাবি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ ডিসেম্বর সমাজ উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী শিক্ষার্থীদের কাছে কোচিং না করিয়েও মাথাপিছু ৯০০ টাকা করে কোচিং ফি জমা দিতে বলা হয়। পাশাপাশি গত জুলাই মাসে লেকচার প্রকাশনীর গাইড বইয়ের নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা সিলেবাস হিসেবে প্রদান করে জানানো হয়—উক্ত গাইড বই না কিনলে প্রি-টেস্টে ফেল করানো হবে।
★—অভিযোগ দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ
অভিযোগ দাখিলের পর গত ৯ ডিসেম্বর বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার হল থেকে বের করে অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় প্রধান শিক্ষক মোবাইল ফোনে তাদের ভিডিও ধারণ করেন।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—“আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে যেন আমরা কোনো মামলার আসামি।”
অভিভাবকদের ক্ষোভ
এসএসসি পরীক্ষার্থী মাহমুদুল হাসানের বাবা মোকশেদ মিয়া বলেন,“আমার ছেলে কোচিংয়ে পড়েনি, তারপরও জোর করে কোচিং ফি চাওয়া হচ্ছে। টাকা থাকলে আমি নিজেই কোচিং করাতাম।”
প্রধান শিক্ষকের ব্যাখ্যা
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাদিস উদ্দিন তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করায় কিছু সময় নষ্ট হলেও তা পরে পূরণ করে দেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও ভিডিও ধারণের বৈধতা বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
তদন্তে উপজেলা প্রশাসন
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,“অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির আহ্বায়ক আমেনা খাতুন জানান,“লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সর্বশেষ