সারাদেশ
পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ময়মনসিংহে শুরু হয়েছে বিয়ের মৌসুম। ঈদের ছুটি, চাকরিজীদের ঘরে ফেরা আর অনুকূল আবহাওয়া—সব মিলিয়ে জেলার শহর ও গ্রামে এখন বিয়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেক পরিবার।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদের পরপরই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন অসংখ্য বিয়ের আয়োজন চলছে। কোথাও চলছে কেনাকাটা, কোথাও অতিথি তালিকা তৈরি, আবার কোথাও সাজসজ্জার প্রস্তুতি। এতে ঈদের আনন্দের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিয়ের বাড়ির আলাদা উচ্ছ্বাস।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, ঈদের সময়টিতে আত্মীয়-স্বজন একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ থাকে। তাই অনেকেই এই সময়কে বিয়ের জন্য সুবিধাজনক মনে করেন। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা স্বজনদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন করা যায় পারিবারিক আয়োজন।
অভিজ্ঞ ঘটক নজরুল ইসলাম জানান, সদরের পরানগঞ্জ, বোররচর, রহিমগঞ্জ, সিরতা, বালিখাঁসহ , ফুলপুর ও তারাকান্দাসহ এলাকায় তিনি ইতোমধ্যে একাধিক বিয়ের সম্বন্ধ ঠিক করেছেন। এসব বিয়ের বেশিরভাগই ঈদের পরদিন ও কয়েক দিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর ভাষায়, “আগের তুলনায় এখন ছেলে-মেয়েদের পছন্দকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই পছন্দ করছে, আমরা শুধু পরিবারগুলোর মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছি।
এদিকে ম্যারেজ মিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত মো. আনিছ বলেন, ঈদের আগে-পরে তাদের কাজ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। “অনেক পরিবার দ্রুত বিয়ের আয়োজন করতে চান। ঈদের ছুটিতে সবাই একত্রিত থাকায় এই সময়টাকে বেছে নিচ্ছেন তারা,” বলেন তিনি।
ঘটক আলী হোসেন জানান, গার্মেন্টস কর্মী পাত্রদের ক্ষেত্রে ঈদের সময়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। “স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্বন্ধ ঠিক করে বিয়ের আয়োজন করতে হয়। তবু এই সময়টায় কাজ করতে ভালো লাগে,” বলে জানান তিনি।
এদিকে বিয়ের বাড়তি চাহিদায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কমিউনিটি সেন্টার, কেটারিং সার্ভিস ও বিউটি পার্লার সংশ্লিষ্টরা। অনেক ভেন্যুই ঈদের পরের তারিখে আগেই বুকড হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও কিছুটা গতি এসেছে।
পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা সোহেল মিয়া প্রতিবেদককে বলেন, ঈদের পরদিন মেয়ের বিয়ের আয়োজন এবং আনন্দ পত্রিকার প্রতিবেদক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকেও দাওয়াত করছেন তিনি। সবাই একসঙ্গে থাকবে, তাই এই সময়টাকেই উপযুক্ত মনে হয়েছে,” বলে জানান তিনি।
ময়মনসিংহ জেলা কাজী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের জানান, প্রতি বছর দুই ঈদের পরই বিয়ের সংখ্যা বেড়ে যায়। “ঈদের আনন্দের সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠান যুক্ত হওয়ায় মানুষের অংশগ্রহণও বেশি থাকে।
পরানগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. রুবেল মিয়া মনে করেন, ঈদের সময় বিয়ের এই প্রবণতা এখন সামাজিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। এতে পারিবারিক সম্পর্ক জোরদার হয় এবং সামাজিক বন্ধনও মজবুত হয়।
সব মিলিয়ে, ময়মনসিংহ এখন যেন এক বিশাল আনন্দমঞ্চ যেখানে ঈদের খুশির সঙ্গে মিশে গেছে বিয়ের রঙিন আয়োজন। সানাইয়ের সুর, আলোর ঝলক আর মানুষের উচ্ছ্বাসে তৈরি হয়েছে এক অনন্য দৃশ্য যা শুধু উৎসব নয়, বরং সম্পর্ক আর ভালোবাসার এক জীবন্ত উদযাপন। উৎসবের পরিধি—যেখানে পারিবারিক মিলন, সম্পর্কের বন্ধন আর নতুন জীবনের সূচনা মিলেমিশে তৈরি করছে এক উজ্জ্বল।
সর্বশেষ