ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ময়মনসিংহ-১, ২ ও ৩—এই তিনটি সংসদীয় আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিন দফায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী মুহাম্মদ রাশেদুল হকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ঋণ খেলাপি হওয়া এবং হলফনামায় মামলা সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর ও তারাকান্দা) আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে আয়কর রিটার্ন ও সম্পদের বিবরণী দাখিল না করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহ্ শহীদ সারোয়ারের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক প্রয়োজনীয় চালানের মূল কপি এবং মোট ভোটারের এক শতাংশ সমর্থনের প্রমাণস্বরূপ কাগজপত্র দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় তার মনোনয়নও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের নেজামে ইসলাম পার্টির মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মো. আবু তাহের খানের হলফনামায় মামলা সংক্রান্ত তথ্য উল্লেখ না করা এবং সম্পদের বিবরণী দাখিল না করায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শরিফুল ইসলামের মনোনয়নপত্রে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিবরণী না থাকায় তার মনোনয়নও বাতিল করা হয়।
মনোনয়ন বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানান, মনোনয়নপত্রে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতার কারণে তিনটি আসনের মোট পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদেশের সার্টিফাই কপি সংগ্রহ করে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম আইন ও বিধি অনুসরণ করেই পরিচালনা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ