সারাদেশ

নার্সের হাত-পায়ের রগ কেটে দিল স্বামী, গুরুতর আহত অবস্থায় মমেক হাসপাতালে

সুমন মাহমুদ শেখ | মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ন
news image

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে মারুফা আক্তার (২৭) নামে এক নার্সের হাত ও পায়ের রগ কেটে দিয়েছে তার স্বামী আরিফুল ইসলাম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে মদন পৌর শহরের বাড়িভাদেরা রোডের একটি ভাড়া বাসায় এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত স্বামী আরিফুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, আরিফুল ইসলামের বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় এবং ভুক্তভোগী মারুফা আক্তার নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর এলাকার বাসিন্দা। প্রায় ১০ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৭ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

মারুফা আক্তার গত ৬ মাস আগে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে যোগদান করেন। এরপর থেকে দম্পতি পৌর শহরের বাড়িভাদেরা রোডে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে বিরোধ ও ঝগড়া লেগে থাকত।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আরিফুল ইসলাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারুফা আক্তারের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, “আমি তাকে লেখাপড়া করিয়েছি। কিন্তু দিন দিন তার নির্যাতন বাড়ছিল। সহ্য করতে না পেরে আঘাত করেছি।”

মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূরুল হুদা খান জানান, “আহত মারুফার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসনাত জামান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সর্বশেষ