ফটো গ্যালারি
বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের ৭৭তম জন্মদিন উপলক্ষে নেত্রকোনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য “হিমু উৎসব”। প্রিয় লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর অমর চরিত্র হিমু ও রূপার বেশে অংশ নেন অসংখ্য তরুণ-তরুণী।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হিমু পাঠক আড্ডা, নেত্রকোণা-এর আয়োজনে শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হলুদ পাঞ্জাবি পরিহিত তরুণ আর নীল শাড়ি পরা তরুণীরা ভিড় করেন শহীদ মিনারে। সকাল ১১টার দিকে গান ও কবিতা পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বের হয় “হিমু-রূপাদের আনন্দ শোভাযাত্রা”।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুখময় সরকার। এছাড়া কবি, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন উৎসবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা। তাঁর সৃষ্ট হিমু, মিসির আলি ও রূপা আজও পাঠকের মনে সমানভাবে জীবন্ত। তাঁর সাহিত্য যেমন বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি, তেমনি মানবিকতার এক অপার উৎস।
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। তাঁর পিতা শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মাতা লেখিকা আয়েশা ফয়েজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর সম্পন্নের পর যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
শিক্ষকতা জীবনের পর তিনি সম্পূর্ণভাবে সাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্রে নিজেকে নিবেদিত করেন। তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে— নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, কোথাও কেউ নেই, দেয়াল, অচিনপুর, তারা তিনজন প্রভৃতি। এছাড়া টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানও অনন্য— এইসব দিনরাত্রি, আজ রবিবার, শ্রাবণ মেঘের দিন, ঘেটুপুত্র কমলা ইত্যাদি কাজ দর্শকের হৃদয়ে অমলিন হয়ে আছে।
২০১২ সালের ১৯ জুলাই এই কিংবদন্তি সাহিত্যিকের মৃত্যু হলেও তাঁর সৃষ্টি আজও বেঁচে আছে কোটি পাঠকের হৃদয়ে।
নেত্রকোনার “হিমু উৎসব” যেন আবারও স্মরণ করিয়ে দিল— হুমায়ূন আহমেদ কেবল একজন সাহিত্যিক নন, তিনি এক প্রজন্মের অনুভব, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর জন্মদিন এখন শুধুই স্মরণ নয়, এটি এক আনন্দ উৎসব, এক আবেগের মিলনমেলা।
সর্বশেষ