আইন-আদালত
•বাড়িঘর ভাঙচুর–লুট, সোয়া কোটি টাকার মালামাল উধাও। নেত্রকোনা সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের জামাটি গ্রামে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে পাঁচটি পরিবারের ওপর সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এ সময় ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি ১০টি পুকুরের প্রায় ৮০ লাখ টাকার মাছসহ মোট সোয়া কোটি টাকার সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, শনিবার রাতের এ হামলায় মনু মিয়ার দুটি, মাতু মিয়ার দুটি এবং মজনু মিয়ার একটি ঘর সম্পূর্ণ তছনছ করা হয়। লুট করে নেওয়া হয় সোনার অলংকার, নগদ অর্থ, মোটরসাইকেল, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল। ঘটনাস্থলে সরেজমিন পরিদর্শনেও এসব ভাঙচুরের চিত্র দেখা গেছে।
★হত্যাকাণ্ডের জেরে নতুন উত্তেজনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ৩০ আগস্ট রাতে রফিক নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা হয়। ওই ঘটনায় রফিকের ভাতিজা নূর মোহাম্মদ (২৯) নিহত হন এবং কয়েকজন আহত হন।
হত্যার রাতের ঘটনা স্মরণ করে রফিক বলেন,
“আমরা কথা বলছিলাম। আচমকা একদল লোক আক্রমণ করে। আমার ভাতিজা ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আমি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। পরে কারা তাদের ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়েছে—তা আমি জানি না।”
★জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় পাঁচ পরিবার
লুটপাট ও হামলার ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে রয়েছেন পাঁচটি পরিবার। শিশু–নারীসহ সবাই প্রাণনাশের ভয়ে বিভিন্ন আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। নিজের ঘরে ফিরতে পারছেন না।
ক্ষতিগ্রস্ত মাতু মিয়া বলেন,“হত্যাকাণ্ড কারা করেছে আমরা জানি না। কিন্তু আমাদের অহেতুক আসামি করে ভয় দেখানো হচ্ছে। সেই সুযোগে সব লুট করে নেওয়া হয়েছে। পাঁচ পরিবারের মিলিয়ে সোয়া কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। থানায় যেতে গেলেও বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। ন্যায়বিচার চাই।”
মজনু মিয়া বলেন, হত্যার বিচার হোক—আমরাও চাই। কিন্তু এই ঘটনার জেরে আমার পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। আবার বাড়িতে গেলে হামলার আশঙ্কা আছে। সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা প্রয়োজন।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন সতর্ক
ঘটনার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে কোনো সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ ও প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে এখনো কোনো গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত পুনর্বাসন, নিরাপত্তা এবং ঘটনার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে।
সর্বশেষ