ময়মনসিংহ
আওয়ামী লীগ নিজেদের সিল নিজেরাই মেরে তাদের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছে—এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতা আলী আজগর মাস্টার। তিনি বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে দেশের জনগণ ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত। এই দীর্ঘ সময়ে দেশে কোনো অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি।”
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ সদর-৪ আসনের একটি নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
আলী আজগর মাস্টার অভিযোগ করে বলেন, “ভোটকেন্দ্র দখল, আগেই ব্যালট বাক্স ভরে রাখা এবং নিজেরাই সিল মেরে ফল ঘোষণা করাই ছিল ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী কৌশল। জনগণের ভোট ছাড়াই বারবার ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করা হয়েছে।”
জনসভায় বক্তব্য রাখেন কোতোয়ালি থানা বিএনপির সদস্য গোলাম আব্বাস বাবুল। তিনি বলেন, “এই দেশে সাধারণ মানুষ টানা প্রায় ১৭ বছর প্রকৃত অর্থে ভোট দিতে পারেনি। জনগণের সেই হারানো ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের সময় এখন এসেছে।” আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আগামী ১২ তারিখ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে ভোটচোরদের বিরুদ্ধে রায় দিতে হবে।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন আবু বক্কর সিদ্দিক তালুকদার। তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচন জনগণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এটি হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নির্বাচন। জনগণ যদি নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, তবে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরে আসবে।”
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের নেতা মো. মিজানুর রহমান সরকার (মিজান) বলেন, “ভোট হলো নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। ভালো-মন্দের বিচার হবে কাজ, নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিত্তিতে—কোনো ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি বা আবেগের ওপর নয়।” তিনি পরিবার ও সমাজের নারী সদস্যদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন, যাতে তারা ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় প্রভাবিত না হন।
দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, টানা প্রায় ১৭ বছর ধরে সাধারণ মানুষ কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। তবে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের মধ্যে ভোটকেন্দ্রমুখী হওয়ার আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় ধর্ম, ভয় বা লোভের মাধ্যমে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা নতুন নয়। তবে নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তারা মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।
সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত উন্নয়ন, গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে। বিভ্রান্তিকর বা ধর্মীয় আবেগনির্ভর বক্তব্য থেকে দূরে থেকে নিজস্ব বিবেচনায় ভোট দেওয়াই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন আবু বক্কর সিদ্দিক তালুকদার (সাবেক সভাপতি, ৪নং পরানগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি ও সদস্য, কোতোয়ালি থানা বিএনপি), আলী আজগর মাস্টার (সাবেক সভাপতি, ৪নং পরানগঞ্জ ইউনিয়ন ও যুগ্ম আহ্বায়ক, কোতোয়ালি থানা বিএনপি), গোলাম আব্বাস বাবুল (সদস্য, কোতোয়ালি থানা বিএনপি), মীর মাজহারুল ইসলাম (সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ৪নং পরানগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি), খোরশেদ আলম মন্ডল (সাবেক সভাপতি, ৩নং ওয়ার্ড, ৪নং পরানগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপি)সহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সর্বশেষ