ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অম্বিকাগঞ্জ কলেজে শিক্ষক অনুপস্থিতি, নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া এবং কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে শিক্ষা কার্যক্রমে চরম অবনতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে কলেজটিতে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কলেজে উপস্থিত থাকলেও অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। ক্যাম্পাসে মাত্র দুইজন শিক্ষককে দেখা যায়। অনেক শ্রেণিকক্ষে কোনো পাঠদান চলছিল না। কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, অধিকাংশ শিক্ষক নিয়মিত কলেজে আসেন না। কেউ কেউ দেরিতে এসে তড়িঘড়ি করে ক্লাস শেষ করে দ্রুত কলেজ ত্যাগ করেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজের বহু শিক্ষক ব্যক্তিগত কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানো নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকায় কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েও তারা অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
অনুসন্ধান ও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাংলা বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জেলা শহরের নাহা রোড এলাকায় “কবির সৃজনশীল” নামে একটি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোঃ মাহবুবুল আলম ওরফে রাসেল মাস্টার পরিচালনা করছেন “এ পি টি ইংলিশ” নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ভূগোল বিভাগের প্রভাষক মোঃ মিজানুর রহমান ফকির “উজ্জ্বল র্যাডিকেল ম্যাথ” নামে একটি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও “উচ্ছ্বাস সৃজনশীল”সহ আরও কয়েকটি কোচিং সেন্টারে কলেজের একাধিক শিক্ষকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, কলেজের শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত পাঠদান না করে শিক্ষার্থীদের কোচিংমুখী করে তোলার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে কোচিং করতে যাচ্ছে।
একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কলেজে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা হলে তাদের আলাদা কোচিংয়ের প্রয়োজন হতো না। কিন্তু বাস্তবতায় তারা কলেজের পরিবর্তে কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
তবে অভিযুক্ত শিক্ষকরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তারা নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন এবং কোচিং সংশ্লিষ্ট অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদককে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কলেজটির শিক্ষা ব্যবস্থা আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ময়মনসিংহের বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অম্বিকাগঞ্জ কলেজে শিক্ষক অনুপস্থিতি ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কলেজে সুষ্ঠু শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।”
সর্বশেষ