সারাদেশ
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভুন্দুরচর সীমান্তের শূন্যরেখায় কয়েকদিন ধরে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে নারী ও দুই শিশুসহ চারজনকে সরিয়ে নেওয়া হলেও তারা এখনো নিজ বাড়িতে পৌঁছায়নি। এ ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর আসামের গোহাটি এলাকায় পুলিশের হাতে আটক হন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনীয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বিল্লাল হোসেন (২৮), তার স্ত্রী সুমি আক্তার (২৬) এবং তাদের দুই সন্তান ফাইমা (৫ মাস) ও ফাতেমা আক্তার (৪)। পরে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে।
গত রোববার ভোরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি। এরপর থেকে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বিল্লালের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা ছেলের ফেরার অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন হয়ে রয়েছেন। তিনি বলেন, “ছাড়া পাওয়ার কথা শুনেছি, কিন্তু এখনো ছেলে কিংবা তার পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি। তারা কোথায় আছে তাও জানি না।”
বিরুনীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সামছুল হোসাইন জানান, বিজিবির সঙ্গে তার কথা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিল্লাল ও তার পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। তবে তারা এখনো বাড়িতে ফেরেননি।
রাত পর্যন্ত বিল্লালের স্বজনদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পরিবারের কেউ এখনো বাড়িতে পৌঁছায়নি। ফিরে এলে বিষয়টি জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তারা।
অন্যদিকে, সীমান্তের শূন্যরেখায় এখনো পাঁচ বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ভুন্দুরচর সীমান্তে তিনজন এবং গয়টাপাড়া সীমান্তে দুইজন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বিজিবি জানিয়েছে, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা করা হলে তা গ্রহণ করা হবে না। সীমান্তে এমন ঘটনা রোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সর্বশেষ