সারাদেশ
ময়মনসিংহ সদর উপজেলা পরানগঞ্জে একটি নির্জন বাড়িতে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে মূল আসামিকে গ্রেফতার করে, ভিকটিমের মোবাইল উদ্ধার এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়ের মাধ্যমে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে অনেকটাই।
পুলিশ ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি নিজ বাড়িতে খুন হন নূরজাহান (৬০)। বাড়িটি নির্জন হওয়ায় ঘটনার দুই দিন পর, ৩০ জানুয়ারি রান্নাঘরের পাশে খড়ের নিচে তার মরদেহ উদ্ধার করে মেয়ে ও এলাকাবাসী। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে নুরুন্নাহার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রাথমিকভাবে থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও, মামলার জটিলতা বিবেচনায় পিবিআই ছায়া তদন্ত চালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ১৬ এপ্রিল পিবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি গ্রহণ করে এবং এসআই (নিঃ) অমিতাভ দাসকে তদন্তভার প্রদান করা হয়।
তদন্তের এক পর্যায়ে গত ২ মে শম্ভুগঞ্জ এলাকা থেকে মো. রনি মিয়া (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় নিহত নূরজাহানের ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ফোন।
পিবিআইয়ের অনুসন্ধানে উঠে আসে, রনি মিয়া পেশায় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি এবং তিনি নিহতকে ‘নানী’ বলে সম্বোধন করতেন। ওই বাড়িতে তিনি প্রায়ই তার প্রেমিকাকে নিয়ে সময় কাটাতেন এবং এর বিনিময়ে নূরজাহানকে ঘরভাড়া দিতেন। তবে ঘটনার দিন পূর্বের বকেয়া ৫০০ টাকা দাবি করেন নূরজাহান। টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার এই গোপন সম্পর্কের বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ করার হুমকি দেন তিনি।
তদন্তকারীরা জানান, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় রনি মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে রান্নার কাজে ব্যবহৃত পাটার শিল দিয়ে নূরজাহানের মাথায় একাধিক আঘাত করে তাকে হত্যা করে। পরে মরদেহ রান্নাঘরে খড় দিয়ে ঢেকে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং যাওয়ার সময় ভিকটিমের মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায়।
গ্রেফতারের পর রনি মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পিবিআই সূত্র জানিয়েছে, মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সাথে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে, ছোট আর্থিক বিরোধ এবং ব্যক্তিগত গোপন সম্পর্কের জটিলতা কখনো কখনো ভয়াবহ অপরাধের রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে নির্জন বসবাস, নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব। এসব বিষয়ও এমন অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকি বাড়ায়।
সর্বশেষ