শিক্ষা
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ২৬নং চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা, নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া এবং আগেভাগে ছুটি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত স্কুল ফিডিংয়ের খাবার সংরক্ষণ নিয়েও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় অভিভাবক ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে বিদ্যালয়ে আসেন। আবার দুপুর দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যেই ছুটি দিয়ে চলে যান। দীর্ঘদিন ধরেই এমন অনিয়ম চললেও প্রধান শিক্ষকের প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলে দাবি এলাকাবাসীর।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে আজ রোববার (১০ মে ২০২৬) সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলছিল। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়নি। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “এখানে প্রায় প্রতিদিনই শিক্ষকরা দেরিতে আসেন। কেউ কিছু বলতে গেলেই বিভিন্নভাবে চাপের মুখে পড়তে হয়।”
তারা আরও জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদা আকন্দ ও সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ স্থানীয় হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না। অভিভাবকদের ভাষ্য, “সবাই মিলে সমঝোতার ভিত্তিতে স্কুল চালানো হচ্ছে।”
প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে প্রধান শিক্ষকসহ তিনজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় প্রধান শিক্ষক দ্রুত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে আগমনের সময় সকাল ৯টা উল্লেখ করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে।”
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল ৯ মে থেকে বিদ্যালয়ে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শুরু হয়েছে এবং আজও পরীক্ষা চলমান ছিল। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকগণের সকাল ৯টার মধ্যে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তার ব্যত্যয় ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের একাধিক কার্টুন জমা থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকদিন ধরে এসব খাবার কক্ষে রাখা রয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিদিন টাটকা খাবার সরবরাহ ও বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে খাবার সংরক্ষণ করায় খাদ্যের মান ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত তদারকি না থাকায় অনেক জায়গায় শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়ছে। শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা ও প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
সর্বশেষ