সারাদেশ

উপজেলা পরিষদ চত্বরেই ভুয়া জন্মনিবন্ধন কারখানা, দীর্ঘদিন পর ধরা প্রতারক শাওন

মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি | নেত্রকোনা ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৩০ অপরাহ্ন
news image

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় সরকারি দপ্তরের নাকের ডগায় বসে দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরির অভিযোগে অবশেষে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন মওদুদ আহমেদ শাওন (৩২) নামের এক ব্যক্তি। তিনি মোহনগঞ্জ পৌর শহরের টেংগাপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও মো. ফেরদৌস মিয়ার ছেলে।


জানা গেছে, মোহনগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরের ভেতরেই ‘এম.এফ আইটি সলিউশন’ নামে একটি কম্পিউটার কম্পোজ ও অনলাইন সেবা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে শাওন দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন অনলাইন সেবা একচেটিয়াভাবে পরিচালনা করে আসছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি জন্ম নিবন্ধনসহ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সনদ নিয়ে প্রতারণার জাল বিস্তার করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পতিত সরকারের আমল থেকেই শাওনের বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরির অভিযোগ থাকলেও তার প্রভাববলয়ের কারণে কেউ আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পাননি।


মামলা সূত্রে জানা যায়, শাওনের স্ত্রী ঝর্ণা আক্তার ৭ নং গাগলাজুর ইউনিয়ন পরিষদের একজন উদ্যোক্তা হিসেবে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সরকারি আইডি ব্যবহার করে শাওন গত ২৩ ডিসেম্বর ইউনিয়নের অধিভুক্ত ঠিকানা দেখিয়ে ১৩ জনের ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করেন।

পরদিন (২৪ ডিসেম্বর) বিষয়টি নজরে আসে মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুনের। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শাওনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পুলিশ শাওনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে দুটি ল্যাপটপ, একটি মনিটর, একটি নোটপ্যাড ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরও ভুয়া সনদ তৈরির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

৭নং গাগলাজুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাজিব মিয়া বাদী হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় শাওনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় প্রতারণার মামলা দায়ের করেন।

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন আনন্দ পত্রিকাকে বলেন, ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরির অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেন। মামলা রুজু করে আজ ২৫ ডিসেম্বর তাকে নেত্রকোনা জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

এর আগে উপজেলা পরিষদ চত্বরের ভেতরেই দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললেও কেন আগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে। সচেতন মহলের দাবি, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ককে আইনের আওতায় আনতে হবে।

সর্বশেষ