সারাদেশ
নিরাপত্তার নামে রক্তপাত, প্রশ্নের মুখে আনসার বাহিনীর শৃঙ্খলা। ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি পোশাক কারখানায় দায়িত্ব পালনকালে আনসার সদস্যের গুলিতে অপর এক আনসার সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর হাতেই সহকর্মীর প্রাণ ঝরে পড়া শুধু মর্মান্তিক নয়, বরং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের ওপর এক ভয়াবহ আঘাত।
নিহত আনসার সদস্যের নাম বজেন্দ্র বিশ্বাস (৪০)। তিনি সিলেট সদর উপজেলার কাদিরপুর গ্রামের পবিত্র বিশ্বাসের ছেলে।
অভিযুক্ত আনসার সদস্য নোমান মিয়া, সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর থানার বালুটুরি বাজার এলাকার লুৎফর রহমানের ছেলে। দু’জনই ভালুকার সুলতানা সোয়েটার্স লিমিটেড নামক পোশাক কারখানায় আনসার হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, দায়িত্ব পালনকালে কোনো এক তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সেই উত্তেজনা রূপ নেয় ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে। কথাকাটাকাটির জের ধরে নোমান মিয়া তার ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছোড়েন, যা সরাসরি বজেন্দ্র বিশ্বাসকে আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আনসার সদস্য নোমান মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। শ্রমিক ও স্থানীয়দের প্রশ্ন—যাদের হাতে নিরাপত্তার দায়িত্ব, তারাই যদি অস্ত্রের অপব্যবহার করে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এই নির্মম হত্যাকাণ্ড আবারও প্রমাণ করে, আনসারসহ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অস্ত্র ব্যবহারে শৃঙ্খলা ও মানসিক স্থিতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা ব্যর্থ। একটি শিল্পাঞ্চলের ভেতরে এমন রক্তক্ষয়ী ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে ধ্বংস করেনি, বরং পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ভবিষ্যতে এমন বর্বর ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সর্বশেষ