ময়মনসিংহ
অভাব-অনটনকে জীবনের প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং শক্তির উৎস হিসেবে কাজে লাগাতে হবে’—এমন বার্তাই দিয়েছেন ময়মনসিংহের সদর উপজেলা ইউএনও আরিফুল ইসলাম প্রিন্স। তারুণ্যের উৎসব উদযাপন ২০২৫ উপলক্ষে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের কর্মসূচির আওতায় উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের চর হাসাদিয়া গ্রামে উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সোমবার (১০ নম্বর) ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের বাস্তবায়নে বাস্তবায়িত হলো ব্যতিক্রমধর্মী একটি পুনর্বাসন কার্যক্রম। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম প্রিন্স প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব উপকরণ বিতরণ করেন।
তিনি উপস্থিত উপকরণ গ্রহণকৃত ব্যক্তিদের ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করে নতুন পথে জীবনধারণের জন্য আহ্বান জানান এবং আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত করার নির্দেশনা দেন। উপজেলা প্রশাসক ভিক্ষুকদের ভিক্ষাবৃত্তি পরিহার করে নতুন কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কয়েকজন ভিক্ষুককে অটোরিকশা বিতরণ করেন।
আয়োজকেরা জানান, তারুণ্যের উৎসব উদযাপন ২০২৫ উপলক্ষে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য ময়মনসিংহে ভিক্ষুকদের প্রাথমিক তথ্য যাচাই-বাচাই করে এক জনের নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আর প্রথম পর্যায়ে একজনকে অটোরিকশাসহ পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিভিন্ন উপকরণ প্রদান করা হয়েছে।
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম প্রিন্স তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করা নয়, বরং এসব মানুষকে সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে এনে সম্মান জনক জীবনের সুযোগ করে দেওয়া। এই ধরণের কর্মসূচি তারই একটি অংশ। ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষকে এই কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।
এ-সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মাকসুদা, ইউপি সদস্য মো. রুবেল হাসানসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
পুনর্বাসনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ দোকান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও অবকাঠামো সহ দোকানঘর পেয়েছেন, আবার কেউ পেয়েছেন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, যা দিয়ে তারা নিজে চালিয়ে আয় করতে পারবেন। এই কার্যক্রমে সুবিধাভোগীরা আবেগ আপ্লুত হয়ে জানান, আগে তারা জীবিকা নির্বাহের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে হাত পাততেন, যা ছিল অপমানজনক ও কষ্টদায়ক। এখন তারা নিজের আয় দিয়ে সম্মানের সঙ্গে জীবন কাটাতে পারবেন এই আত্মবিশ্বাসে ভরপুর তারা।
এটি শুধু একটি পুনর্বাসন কার্যক্রম নয়, এটি সমাজের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ। স্থানীয় প্রশাসনের এমন উদ্যোগ সমাজে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো।
সর্বশেষ