সারাদেশ
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষককে আসামি করে মামলা দায়ের করা হলেও ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
ভুক্তভোগী শিশুটি মদন উপজেলার একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারের অভিযোগ, গত বছরের নভেম্বর মাসে মাদ্রাসা ছুটির পর অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশলে তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে এবং বিষয়টি গোপন রাখতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। পরবর্তীতে আরও একাধিকবার একই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটি ঘটনাটি জানালে গত ২৩ এপ্রিল মদন থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
এরপর চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে আল্ট্রাসনোগ্রামে তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন চিকিৎসক সায়েমা আক্তার। তিনি আনন্দ পত্রিকাকে জানান, “মাত্র ১১ বছরের একটি শিশুর শরীরে এমন জটিল অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তার ওজন মাত্র ৩০ কেজি, আর গর্ভের শিশুটির ওজন ইতোমধ্যে প্রায় ৯০০ গ্রাম। এ অবস্থায় প্রসব করানো হলে জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে।”
চিকিৎসক আরও বলেন, শিশুটি বর্তমানে রক্তশূন্যতায় ভুগছে এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসা তত্ত্বাবধান প্রয়োজন।
এদিকে, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরায় চিকিৎসক নিজেও হুমকি ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেই ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। তবে সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন বলে জানা গেছে, যদিও ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি আনন্দ পত্রিকা।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম আনন্দ পত্রিকাকে জানান, “ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।”
অন্যদিকে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে বিলম্ব হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিশুটির স্বজনরা। ভুক্তভোগীর মামা আনন্দ পত্রিকাকে বলেন, “আমরা কোনো সাহায্য চাই না, শুধু এই ঘটনার বিচার চাই।”
ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন শিশুটির খোঁজখবর নিয়েছে এবং তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, শিশুটির প্রসব পর্যন্ত সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।
সর্বশেষ