আইন-আদালত

১৪ বছরের মেয়েকে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর তিনজন কারাগারে

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ | ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ অপরাহ্ন
news image

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় ধিতুয়া গ্রামের ১৪ বছর বয়সী এক মেয়ে ঢাকায় একটি বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করেন। গত মঙ্গলবার ওই মেয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে মুক্তাগাছায় বাস থেকে নামে। এরপর অটোরিকশা করে পদুরবাড়ী বাজারে নেমে সেখান থেকে পায়ে হেটে নিজ বাড়িতে যেতে থাকে। তখন রাত সারে ৯টা রাস্তায় দেখা হয় প্রতিবেশী পংকজ দের সাথে। পংকজ তাকে বাড়ি পৌঁছে দেবার কথা বলে একটি অটোরিকশাতে তুলে নেয়। 

পরে তাকে অটোরিকশায় করে ভিন্ন পথে ঘুরিয়ে চাপুরি গ্রামের একটি বাঁশ বাগানে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্ব মুখ চেপে ধরে পংকজ ও তার তিন সহযোগী (অটোচালক রোমান মিয়া, আমির হোসেন এবং এমরান) মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ চালায়।

ওই ১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে রাতভর গণধর্ষণের ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে গত বুধবার রাতে ধরে এনে পুলিশে সোপর্দ করে এলাকাবাসী। এরপর গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট মামলায় ওই আসামীদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আসামি করা হয়েছে ধিতুয়া গ্রামে রমেশ চন্দ্রদের ছেলে পঙ্কজ দে (১৯) রোমান মিয়া (২৩) ও আব্দুর রহিমের ছেলে এমরান হোসেন (৩২)। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত চাপুরিয়া গ্রামের আমির হোসেন (২৮) বতর্মানে পলাতক রয়েছে।

আনন্দ পত্রিকাকে ভুক্তভোগী কিশোরী জানান, পংকজ আমাদের এলাকার পরিচিত। সে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বললে আমি রাজি হই। কিন্তু তারা আমাকে অটোতে তুলে নিয়ে বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে ধর্ষণ করে ভোরে একটি ফিসারির পাশে ফেলে যায়। পরে সকালে লোকজন আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়।” 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ বলেন, খুবই দুঃখ জনক একটি ঘটনা, মেনে নেওয়ার মত না, আমরা পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে জন্য কাজ করছি এবং ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। 

বাংলাদেশে ধর্ষণ বাড়ছে, বাড়ছে ধর্ষণের পর হত্যা। সামাজিক অবক্ষয়, মাদকের বিস্তার, কর্মহীনতা, আকাশ সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব, আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকা, পর্নো ছবির অবাধ বিক্রি, সর্বোপরি নারীর প্রতি পুরুষের হীন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা। 

ধর্ষণে জড়িতরা হয়ে পড়ছে অপ্রতিরোধ্য। শিশু থেকে কিশোরী, যুবতী থেকে বৃদ্ধা, স্কুলছাত্রী থেকে পোশাক কর্মী, ডাক্তার, আইনজীবী এমনকি ভিখারিনীও রেহাই পাচ্ছে না মানুষরূপী এসব হায়েনার হিংস্র থাবা থেকে। ধর্ষকরা শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত থাকছে না, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ঘটাচ্ছে নৃশংস হত্যাকান্ড।


সর্বশেষ