রাজনীতি

২ লাখ শিক্ষার্থীর ৪ লাখ খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন

২৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:৪৯ অপরাহ্ন
news image
২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে এবার রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ২ লাখ ২৬ হাজার শিক্ষার্থী ৪ লাখ ২৮ হাজার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন। ঢাকায় আবেদনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি, আর বরিশাল বোর্ডে সবচেয়ে কম। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন বেশি করেছেন। শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পুনঃনিরীক্ষণে ঢাকার পরেই রয়েছে কুমিল্লা ও রাজশাহী বোর্ড। বিপরীতে সবচেয়ে কম আবেদন পড়েছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে। গত ১৬ অক্টোবর ফল প্রকাশের পরদিন (১৭ অক্টোবর) থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৭ দিন শিক্ষার্থীরা প্রতি বিষয়ে ১৫০ টাকা ফি দিয়ে আবেদন করার সুযোগ পান। ঢাকা বোর্ডের ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছেন ৬৬ হাজার ১৫০ জন, যা থেকে জমা পড়েছে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৬টি বিষয়ে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন।

কুমিল্লা বোর্ডে ৯৯ হাজার ৫৭৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ হাজার ৫০৩ জন ৪২ হাজার ৪৪টি খাতা পুনঃনিরীক্ষণে আবেদন করেছেন। রাজশাহী বোর্ডে আবেদন করেছেন ২০ হাজার ৯২৪ জন শিক্ষার্থী, যেখান থেকে ৩৬ হাজার ১০২টি খাতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ লাখ ১ হাজার ৮৪৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ হাজার ৫৯৫ জনের আবেদন থেকে ৪৬ হাজার ১৪৮টি খাতা পুনঃনিরীক্ষণের তালিকায় এসেছে। যশোর বোর্ডে ২০ হাজার ৩৯৫ শিক্ষার্থী ৩৬ হাজার ২০৫টি বিষয়ে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। দিনাজপুর বোর্ডে আবেদনকারীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৩১৮ জন এবং খাতা ২৯ হাজার ২৯৭টি। ময়মনসিংহ বোর্ডে ১৫ হাজার ৫৯৮ জনের আবেদন থেকে খাতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৭৩৬টি।

সিলেট বোর্ডে আবেদন করেছেন ১৩ হাজার ৪৪ জন শিক্ষার্থী এবং সেখানে ২৩ হাজার ৮২টি খাতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে (বিটিইবি) ১২ হাজার ৭ জন শিক্ষার্থীর আবেদনে ১৫ হাজার ৩৭৮টি খাতা পুনঃনিরীক্ষণের তালিকায় এসেছে।

মাদরাসা বোর্ডে আবেদন সংখ্যা ৭ হাজার ৯১৬ জন এবং খাতার সংখ্যা ১৪ হাজার ৭৩৩টি। 

সবশেষে বরিশাল বোর্ডে আবেদনকারীর সংখ্যা সবচেয়ে কম- মাত্র ৮ হাজার ১১ জন শিক্ষার্থী। তাদের আবেদন থেকে ১৭ হাজার ৪৮৯টি খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আওতায় এসেছে।


কোনো খাতায় পুনরায় মূল্যায়ন বা নতুন করে নম্বর দেওয়া হয় না- শুধু গণনাগত বা ট্যাবুলেশনভিত্তিক ভুল পাওয়া গেলে তা সংশোধন করা হয়। ফল পুনঃনিরীক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর কমানো হয় না, বরং যদি কোনো ভুল ধরা পড়ে, নম্বর শুধু বাড়ানো হয়। ফলে আবেদনকারীরা কোনো ঝুঁকিতে থাকেন না। সাধারণত পুনঃনিরীক্ষণের পর অনেক শিক্ষার্থীর ফলই পরিবর্তিত হয়

ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে বেশি আবেদন

বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগের বছরগুলোর মতো এবারও ইংরেজি ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে সবচেয়ে বেশি পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন এসেছে। 

কর্মকর্তাদের মতে, এই দুই বিষয়ে লেখনিভিত্তিক প্রশ্নসহ ধাপে ধাপে মার্কিং পদ্ধতির কারণে ভুল বা নম্বর অসঙ্গতির আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি থাকে। 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশেষ করে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র এবং আইসিটি তত্ত্ব অংশে তাদের প্রাপ্ত নম্বর প্রত্যাশার তুলনায় কম এসেছে।

পুনঃনিরীক্ষণে কী করা হয়?

ফল পুনঃনিরীক্ষণে পরীক্ষার খাতা নতুন করে দেখা হয় না। বরং আবেদন পাওয়ার পর শিক্ষা বোর্ডের বিশেষ কমিটি বিশেষ কিছু ধাপ অনুসরণ করেন৷ 

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের ভিত্তিতে নম্বর যোগের ভুল সংশোধন করা হয়। 

তিনি বলেন, এক্ষেত্রে পরীক্ষার খাতায় প্রশ্নভিত্তিক প্রাপ্ত নম্বর সঠিকভাবে যোগ হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়। এরপর খাতার নম্বর ট্যাবুলেশন শিটে (ফল সংরক্ষণ তালিকা) সঠিকভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে কি না, সেটিও মিলিয়ে দেখা হয়। এছাড়া কোনো অতিরিক্ত উত্তরপত্র বা পৃষ্ঠা বাদ পড়ে গেছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হয়। তবে নতুন করে মার্কিং করা হয় না।



সর্বশেষ