আইন-আদালত
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হন জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট মজনু ও তার পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ‘হত্যার উদ্দেশ্যে’ তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার একজন আসামিকে গত শুক্রবার পুলিশ গ্রেফতার করে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) ওই আসামির জামিন আবেদন শুনানি অনুষ্ঠিত হলে বাদী এডভোকেট মজনু নিজে আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের বিরোধিতা করেন। তাঁর সঙ্গে আরও ৭–৮ জন আইনজীবী উপস্থিত হয়ে একই দাবি জানান। তবে শুনানি শেষে আদালত সদ্য ধৃত আসামিকে জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন প্রাপ্তির পরপরই আইনজীবী মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এডভোকেট: কামাল হোসাইন খান আনন্দ পত্রিকাকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—“টাকা সুইপারের ঘরেও আছে। কিন্তু টাকার বিনিময়ে মানবতার পতন কখনোই কাম্য নয়। একজন জুনিয়র সহকর্মীর বিপক্ষে দাঁড়িয়ে অপরাধীর পক্ষে সওয়াল করা শুধু টাকার কারণে—এই টাকার ওপর আমি থুতু দেই।”
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের উচ্চপদস্থ এক ব্যক্তির মন্তব্য— “বিচারক ও আইনজীবী একই পাখির দুটি ডানা” বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই আর কার্যকর মনে হয় না।
ঘটনার সময় উপস্থিত আইনজীবীরা জানান, হামলার শিকার মজনু একজন মেধাবী ও সদ্য রিটেন-পাসকারী আইনজীবী। ভবিষ্যতে তিনি বিচারিক পদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে উল্লেখ করে তাঁরা তাঁর প্রতি সহমর্মিতা ও সমর্থন জানান।
মজনু সহ তাঁর পরিবারের ওপর হামলার ঘটনাটি এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীর সহকর্মীরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মামলার যথাযথ তদন্ত ও অপরাধীদের শাস্তি দাবি করেছেন।
★হামলার পেছনে কারা? গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত।
স্থানীয় আইনজীবীরা দাবি করেছেন—হামলার আগের দিন থেকেই এলাকায় অস্বাভাবিক নড়াচড়া দেখা যায় মামলার কিছু আসামি প্রভাবশালী। তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুত জামিন তারই ইঙ্গিত বহন করে।
এখনো পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও ভুক্তভোগী পরিবার বলেন, আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মামলার অন্যান্য আসামিরাও যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে।”
★ন্যায়বিচার কি ধরা ছোঁয়ার বাইরে?
মামলাটি এখন হালুয়াঘাট–ময়মনসিংহ জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আইনজীবীরা মনে করছেন—“আইনকে উপেক্ষা করে অপরাধীকে রক্ষা করা হলে এর প্রভাব গোটা বিচারব্যবস্থার ওপর পড়বে।”
সর্বশেষ