ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর মোজাম্মেল হোসেন মননকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসে একটি জাতীয় দৈনিক “আনন্দ পত্রিকা”-তে সংবাদ প্রকাশের পর, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই ব্যবসায়ী নুরুজ্জামান রানার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, টাকা না দিলে তার ফ্যাক্টরি ও মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া এবং শারীরিক হামলার হুমকিও দেওয়া হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গত ৬ মার্চ, রমজান উপলক্ষে আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকজন ব্যক্তি মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা নিয়ে এসে প্রকাশ্যে আবারও চাঁদার দাবি তোলে। এতে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত সরে পড়ে। পরদিন (৭ মার্চ) রাতে ভুক্তভোগী গফরগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। এতে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২৫–৩০ জনকে আসামি করা হয়।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক কাজী আব্দুল্লাহ আল-মামুন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মীর মোজাম্মেল হোসেন মননকে সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের তাকে বয়কট করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মীর মোজাম্মেল হোসেন মনন বলেন, তিনি সবসময় সৎ রাজনীতি করেছেন এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহিষ্কারের প্রকৃত কারণ জানতে তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলেও জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে সোমবার সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গফরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ নতুন নয়, তবে গণমাধ্যমে প্রকাশ ও দ্রুত দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলগুলোর জন্য শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনমত ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সর্বশেষ