সারাদেশ

মোহনগঞ্জে ‘মকসুদ আলী মেমোরিয়াল ট্রাস্টে’র মেধাবৃত্তি ও গুণীজন সম্মাননা

সুমন মাহমুদ শেখ | মোহনগঞ্জ প্রতিনিধি ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ন
news image

সোমবার ২০ এপ্রিল মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়াম হলরুমে ‘মকসুদ আলী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’র উদ্যোগে আয়োজিত ১৭তম মেধাবৃত্তি ও গুণীজন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. আবুল কালাম বকুলের সভাপতিত্বে ও আছহাব উদ্দিন খোকনের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. মোখলেছুর রহমান, অধ্যক্ষ, মোহনগঞ্জ মহিলা কলেজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আজ যাঁদের ঘিরে এ আয়োজন, যে গুণীজনদের আজ সম্মাননা জানানো হচ্ছে তাদের অন্যতম কবি, গীতিকার ও শিল্পী মো. জসিম উদ্দিন, কাজী রফিকুর রহমান, প্রধান শিক্ষক, মোহনগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, স্নিগ্ধা চক্রবর্তী, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, মোহনগঞ্জ, মীর্জা বায়জিদ আহমেদ, সিনিয়র সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি), মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, আ.ফ.ম আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক, মোহনগঞ্জ উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, উপজেলার বিভিন্ন স্কুল থেকে আগত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ এবং মোহনগঞ্জ সুশীল সমাজের একাংশ।

প্রথমেই কোরআন তিলাওয়াতের পর সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের প্রথমার্ধ অর্থাৎ আলোচনা সভার শুরু হয়। আলোচনা সভা শেষে চা বিরতির পর দ্বিতীয় পর্ব শুরু হলে প্রথমে গুণীজনদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ। অতঃপর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত ৩২জন শিক্ষার্থীকে ‘মকসুদ আলী মেমোরিয়াল ট্রাস্টে’র সম্মাননা সনদপত্র প্রদান করেন আগত অতিথিবৃন্দ।

আবুল কালাম। একজন মানুষ গড়ার কারিগর, অবসরপ্রাপ্ত প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক। সরকারি নিয়মানুযায়ী কর্মজীবনে অবসর নিলেও মেধা ও মননে আজও সেই সৃজনশীলতায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন অবিরত। যার মানসিকতায় সমাজের কল্যাণ করার সৃজনশীল মানসিকতা বিদ্যমান থাকে, তাকে অবসরে দেয় কে? এই স্বার্থান্বেষী সমাজে আবুল কালাম বকুল তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার ৪নং মাঘান সিয়াধার ইউনিয়নের পেরীরচর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম বকুল। তিনি তেমন কোনো ধনাঢ্য পরিবারের ব্যক্তি নয়। মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন স্কুল শিক্ষক। বিত্তে ধনি না হলেও চিত্তে তিনি বিশালতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই সমাজে অসংখ্য ধনাঢ্য ও বিত্তশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যারা সম্পদের পাহাড় গড়তে মরিয়া। সমাজের প্রতি তাদের কোনো দায় নেই। অথচ, এই আবুল কালাম বকুলের মতো লোকেরা নিজের যৎসামান্য দিয়েই সমাজের কল্যাণে নিয়োজিত রয়েছেন।

তিনি তাঁর পিতার নামে ‘মকসুদ আলী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ গঠন করেন ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে। সেই থেকে অদ্যাবধি প্রতিবছর মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে আসছেন। দেখতে দেখতে হাঁটি হাঁটি পা পা করে ষোলো পেরিয়ে সতেরোতে পদার্পণ করেছে এই ‘মকসুদ আলী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’। একান্তই ব্যক্তিগত সদিচ্ছা ও কল্যানমূলক মানসিকতায় তিনি উজ্জীবিত হয়ে এমন অলাভজনক একটি সংগঠন পরিচালনা করে আসছেন। সম্পূর্ণ পারিবারিক সম্পত্তিই একমাত্র আয়ের উৎস এই ট্রাস্টের। তিনি তাঁর পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে এক একর জমি দান করেছেন ট্রাস্টের নামে। এই জমির আয় এবং তার ব্যক্তিগত অনুদান থেকেই প্রতি বছর মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ও দু'জন গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান করে আসছেন।


সর্বশেষ