ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহে ইকবাল হত্যা রায়: ৭ জনের ফাঁসি, দুই নারী কারাদণ্ডে

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ | ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৬ অপরাহ্ন
news image

ময়মনসিংহের তারাকান্দায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কলেজছাত্র শাহীনুর আলম ওরফে ইকবাল (১৯) হত্যা মামলায় ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দুই নারী আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মো. ইউনুছ আলী ওরফে ইন্নছ আলী (৬২), মোহাম্মদ আলী (৫২), মো. গোলাম হোসেন ওরফে গুলু (৫১), শামছুল হক (৪৪), আসিফ রানা নাঈম (২৪), মো. আব্দুল হেলিম (৫১) ও মো. ফরিদ আহম্মেদ ওরফে বাবু (১৯)। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

এছাড়া মোছা. খালেদা আক্তার ও মোছা. রেহেনা খাতুনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর কারাভোগ করতে হবে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, নিহত ইকবাল ময়মনসিংহ নগরীর রুমডো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। ২০২১ সালের ৩১ মে রাতে নিজ গ্রাম পলাশকান্দা টানপাড়া থেকে বের হয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে যান তিনি। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। পাঁচ দিন পর, ৫ জুন গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের নিচে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংক থেকে তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় ৬ জুন নিহতের বড় ভাই সেলিম মিয়া বাদী হয়ে প্রতিবেশী আসিফ রানা নাঈমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তারাকান্দা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে ইকবালকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুম করতে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয় এবং সন্দেহ এড়াতে লাশের ওপর মরা শিয়াল ও গোবর ফেলে গাছ লাগিয়ে রাখা হয়।

আদালত ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে এ রায় প্রদান করেন।

রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী সেলিম মিয়া। তিনি বলেন, “আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। এখন দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানাই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইকবালের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় একটি পক্ষের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধই ধীরে ধীরে রূপ নেয় শত্রুতায়, যা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী সংঘর্ষে গড়ায়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইকবালকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, এটি ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত গুমের চেষ্টা।

সর্বশেষ