সারাদেশ
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ইটবোঝাই হ্যান্ডট্রলি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. সজুদুল হক (৫৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১২ বছর বয়সী এক শিশুসহ আরও দু’জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নিহত মো. সজুদুল হক পূর্বধলা উপজেলার ছোছাউড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। আহতরা হলেন— পূর্বধলা রাজধলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মোফাজ্জল হোসেন (২৮) এবং টিকুরিয়া গ্রামের আলাল খানের ছেলে ১২ বছর বয়সী শিশু আনাস। আহত শিশু আনাস নিহত সজুদুল হকের মেয়ের দিকের নাতি।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পূর্বধলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছোছাউড়া মডার্ন আইডিয়াল স্কুল সংলগ্ন স্টেশন সড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ছোছাউড়া এলাকা থেকে একই মোটরসাইকেলে চড়ে সজুদুল হকসহ তিনজন পূর্বধলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে তারা মডার্ন আইডিয়াল স্কুলের কাছে স্টেশন সড়কে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী ইটবোঝাই একটি ট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আরোহীরা সড়কে ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই সজুদুল হকের মৃত্যু হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় মোফাজ্জল হোসেন ও শিশু আনাসকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
দুর্ঘটনার পর ইটবোঝাই ট্রলিটি ঘটনাস্থলে রেখে চালক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহত সজুদুল হকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘাতক হ্যান্ডট্রলি এবং দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ট্রলির চালক পালিয়ে গেলেও তাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে নানার সঙ্গে ফেরার পথে নাতি গুরুতর আহত হওয়া এবং নানার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা অবৈধ ট্রলি ও বেপরোয়া গতির যানবাহনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সর্বশেষ