ময়মনসিংহ
দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মাঠের চিত্র। দলে নতুন করে যুক্ত হচ্ছেন তথাকথিত ‘হাইব্রিড’ নেতারা—যারা অতীতে আন্দোলন-সংগ্রাম বা মামলা-নির্যাতনের মুখোমুখি হননি। বরং বিগত সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যস্ত থেকে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সমঝোতায় ছিলেন, তারাই এখন দলের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে রাজপথে থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীরা পড়েছেন উপেক্ষার মুখে। মামলা-হামলা, নির্যাতন, আর্থিক ক্ষতি ও ঘরছাড়া জীবনের বোঝা বয়ে বেড়ানো এসব নেতাকর্মীর অনেকেই আজ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের কৃতি সন্তান ও ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মামুন মন্ডল ত্যাগী নেতাদের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। দলের দুর্দিনে রাজপথে সক্রিয় থাকা এই নেতা নানা নির্যাতন, গায়েবি মামলা ও দমন-পীড়নের শিকার হন।
বিগত সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়। এর ফলে তাকে দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়েছে। এমনকি তার ব্যবসায়ও হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে এক সড়ক দুর্ঘটনায় পা ভেঙে গেলেও তিনি রাজপথ ছাড়েননি।
মামলার চাপে তাকে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে ভাঙা পা নিয়েই সিঁড়ি বেয়ে এজলাসে উঠতে হয়েছে যেখানে তাকে লিফট ব্যবহারের সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। গায়েবি মামলায় মাসের পর মাস জেলেও থাকতে হয়েছে তাকে।
এ বিষয়ে মামুন মন্ডল বলেন, “দলের আদর্শ থেকে আমাকে একচুলও সরানো যায়নি। জেল-জুলুম, মামলা-হামলা আমাকে দমাতে পারেনি। আমরা যারা দুর্দিনে রাজপথে ছিলাম, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে অনেক সুবিধাভোগী ব্যক্তি খোলস বদলে দলে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন কৌশলে তারা দলের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছেন। কিন্তু আমরা চাই ত্যাগীদের মূল্যায়ন হোক, তাদের অধিকার নিশ্চিত করা হোক।
দলীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, কঠিন সময়ে যারা দলকে ধরে রেখেছেন, তাদেরই যেন ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
সর্বশেষ