শিক্ষা
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হলেও নাটোরের লালপুর উপজেলায় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা পড়েছে চরম বই সংকটে। প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে মাত্র একটি করে বই হাতে নিয়েই ক্লাসে ফিরতে হচ্ছে। ফলে একাধিক বিষয়ের পাঠ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, দেখা দিয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ।
সরেজমিনে লালপুর উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, ইকরা কিন্ডার গার্ডেন কেজি স্কুলে শিক্ষার্থীদের নতুন বছরের জন্য মাত্র একটি করে পাঠ্যবই দেওয়া হয়েছে। অথচ একটি শ্রেণিতে একাধিক বিষয়ের বই প্রয়োজন। বই না থাকায় নিয়মিত পাঠদান শুরু করতে পারছেন না শিক্ষকরা, আর নতুন ক্লাসের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে ইকরা কিন্ডার গার্ডেন কেজি স্কুলের অধ্যক্ষ আসসালাম উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে সানরাইজ কিন্ডার গার্ডেন কেজি স্কুলের অধ্যক্ষ দিনা জানান, আমরা মোট বইয়ের মাত্র ৫০ শতাংশ পেয়েছি। তাই বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক করে বই বিতরণ করেছি। বাকি বই না আসা পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ পাঠ কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।”
বই সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবকও। তাদের ভাষ্য, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই যদি বই না মেলে, তাহলে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বড় ধরনের ক্ষতি হবে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানের শিখা বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ বই সরবরাহ করা হয়েছে। তবে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য আপাতত ৫০ শতাংশ বই দেওয়া হয়েছে। ইকরা কিন্ডার গার্ডেন কেজি স্কুলে কেন শিক্ষার্থীদের মাত্র একটি করে বই দেওয়া হয়েছে সে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, দ্রুত বাকি বই সরবরাহ না করা হলে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই পিছিয়ে পড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপই এখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একমাত্র প্রত্যাশা।
সর্বশেষ