সারাদেশ

‘পরীক্ষা থামবে না’—মাঠে নেমে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিলেন ইউএনও সানজিদা

রাকিবুল ইসলাম, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৩১ অপরাহ্ন
news image

তিন দফা দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণার মধ্যেও ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে থেমে থাকেনি বার্ষিক পরীক্ষা। বরং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় পরীক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে মাঠে নেমেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় উচাখিলা ইউনিয়নের কাজীর বলসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা পরীক্ষা স্বশরীরে নেন ইউএনও সানজিদা রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক সাকলাইন আহমেদ।

সেদিন তিনি আরও পরিদর্শন করেন—চর-আলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ,আলাদিয়ার আলগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মরিচারচর নামাপাড়া, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মরিচারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের নির্ভয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে উৎসাহ দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ।

[১৪০টি বিদ্যালয়ে একযোগে পরীক্ষা]

উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের কর্মবিরতির ডাক উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার উপজেলার ১৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে প্রধান শিক্ষক, ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, ভূমি অফিসের নায়েব, গ্রাম পুলিশ, আনসার সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় অভিভাবকদের সহযোগিতায় পরীক্ষা পরিচালিত হয়।

পরীক্ষা শেষে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার, মেহেদি হাসান এবং দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার ও বায়জিদ রহমান বলেন,“বার্ষিক পরীক্ষা দিতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। বড় ম্যাডাম (ইউএনও) আমাদের স্কুলে এসেছিলেন। তিনি অনেক আদর করে পরীক্ষা নিয়েছেন।”

অভিভাবক বাদল মিয়া ও নাজমুল আলম বলেন,

“শিশুদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে ফেলে দাবি আদায় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই।”

কাজীর বলসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাকলাইন আহমেদ বলেন,“ইউএনও ম্যাডাম ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্যার উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীরা অনেক খুশি হয়েছে। আমরাও অনুপ্রাণিত হয়েছি।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ বলেন,“প্রশাসনিক কঠোর নজরদারির মধ্য দিয়ে ১৪০টি বিদ্যালয়ের সবগুলোতেই পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে চলছে। পরীক্ষা স্থগিত বা বর্জনের কোনো সুযোগ নেই।”

পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ও পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠে থাকা ইউএনও সানজিদা রহমান বলেন,“আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। শিক্ষার্থীদের স্বার্থেই যেকোনো মূল্যে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। মন্ত্রণালয় থেকে পরীক্ষা স্থগিত বা বর্জনের কোনো নির্দেশনা নেই। তাই প্রধান শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় শিক্ষিত মানুষদের সহায়তায় পরীক্ষা চলছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা নিতে পেরে আমি সন্তুষ্ট।”

সর্বশেষ