নেত্রকোনা
জেলা প্রশাসন ও নেত্রকোণা পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার বংশবিস্তার রোধ, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শনিবার সকালে এক সচেতনতামূলক র্যালি ও উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টায় জেলা শহরের মোক্তারপাড়া মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “রোগ নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। একটি রোগ হয়ে গেলে তার চিকিৎসা যেমন কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল, তেমনি এতে জীবনের ঝুঁকিও থাকে। আমরা যদি রোগ হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধ করতে পারি, তবে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে ভোগান্তি কমবে এবং অর্থনৈতিকভাবেও সাশ্রয়ী হওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর যে শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়, তা অনেক সময় দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়।”
ডেঙ্গু মশার উৎপত্তিস্থল সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, “ডেঙ্গু মূলত মশার মাধ্যমে ছড়ায়। সাধারণত এপ্রিলের শুরু থেকে বর্ষার আগে ও পরে এর প্রকোপ বাড়ে। ডেঙ্গুর মশা বদ্ধ পানিতে জন্মায়; চলমান পানিতে লার্ভা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা আমাদের পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। নিজ নিজ বাসার আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়া গেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।”
পৌরসভার উন্নয়ন ও জনগণের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমাদের সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। আমরা অনেক সময় রাস্তাঘাট বা ড্রেনে ময়লা ফেলে দিই। পৌর প্রশাসনকে আহ্বান জানাব, তারা যেন কেন্দ্রীয়ভাবে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে এবং তা মহল্লায় মহল্লায় ছড়িয়ে দেয়। শুধু মশা নিধনের জন্য নয়, সার্বিক সুস্বাস্থ্যের জন্যই পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী—সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থল পরিষ্কার রাখতে হবে। প্লাস্টিকের ডাস্টবিন ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে আমাদের রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে।”
বক্তব্যের শেষে তিনি নেত্রকোণাকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই পরিচ্ছন্ন নেত্রকোণা গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই এই পৌরসভাকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করে তুলতে। বিশেষ করে মগড়া নদীতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার যে সমস্যা রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা সম্ভব না হলেও ভবিষ্যতে এর একটি স্থায়ী ও কার্যকর সমাধানের জন্য বৃহৎ পরিসরে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক সুখময় সরকার, জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম এবং স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথির নেতৃত্বে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের মোক্তারপাড়া থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় জনসাধারণের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে লিফলেট বিতরণ, উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও জেপি অ্যাডভোকেট মাহফুজুল হক, জেলা কৃষক দলের সভাপতি ও কে-গাতী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. সালাহউদ্দিন খান মিল্কী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম মনিরুজ্জামান দুদু, জেলা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি ও বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন খান রনি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ