আইন-আদালত
জনগণের জমি–সংক্রান্ত সেবা যেখানে হওয়া উচিত সবচেয়ে স্বচ্ছ ও দ্রুত, সেখানে চলছে প্রকাশ্য ঘুষ বাণিজ্য—এমন অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে সাধারণ মানুষ। ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ফাইল ছাড়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাগজপত্রের অনুমোদন—সব জায়গায়ই নাকি চলছে “টাকা না দিলে কাজ নয়” নীতি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও/ছবিতে দেখা যায়— ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান অফিসকক্ষে বসে টাকা গুনছেন। ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তেই জনমনে প্রশ্ন—“এটাই কি তাহলে আমাদের ভূমি অফিসের বাস্তব চিত্র?” তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি “বরফের চূড়ামাত্র”।
হয়রানির চক্র—ভুক্তভোগীরা বলছেন:
নামজারি করতে গেলে টাকা, খতিয়ান তুলতে গেলে টাকা, নথি সরাতে গেলে টাকা—মনে হচ্ছে জনগণের কাগজপত্র যেন জিম্মি করে রাখা হয়েছে।অভিযোগকারীরা বলছেন, কাজের ফাইলকে ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। অনেকে মাসের পর মাস ঘুরেও নাকি কাজ পান না, অথচ “গোপন লেনদেন” ঘটলেই ফাইল নাকি জাদুর মতো এগিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ওবায়দুল ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন—“সরকার ডিজিটাল সেবা দিচ্ছে, আর ভূমি অফিসে কিছু কর্মকর্তা সেই সেবা ‘দুর্নীতির টোলগেটে’ আটকে দিচ্ছেন।”
অভিযোগ—লাখ লাখ টাকার অবৈধ লেনদেনের নেটওয়ার্ক।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিলো। এ সিন্ডিকেটটি নিয়মিতভাবে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে। কেউ প্রতিবাদ করলে ফাইল আটকে রাখা, জটিলতা সৃষ্টি করা ও হয়রানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগও এসেছে ভূমি অফিসে নায়েব মাহবুবুর রহমান এর বিরুদ্ধে।
প্রশাসনের নীরবতা—ইচ্ছাকৃত, নাকি অজানা?
জনগণের ক্ষোভ প্রশ্ন তুলছে—অভিযোগ এতদিন ধরে চললেও কেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? স্থানীয়দের ভাষায়—“দুর্নীতি দেখছে সবাই, কিন্তু ব্যবস্থা নিচ্ছে কেউ না। এ নীরবতা কি তাহলে কোনো অদৃশ্য সুরক্ষা?”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। নথি ঘুরিয়ে দেওয়া, ফাইল বিলম্বিত করা, আর্থিক লেনদেন ছাড়া প্রয়োজনীয় কাজ না করা—এ ধরনের কার্যকলাপ নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এতে জনসাধারণ যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি সেবা খাতে অবিশ্বাসও বাড়ছে।
অভিযোগকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই অফিসে এমন অনিয়ম চলছে। বিভিন্ন কাগজপত্র, নামজারি, খারিজ, জমির খতিয়ান সংশোধনসহ নানা কাজে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতেন মাহবুবুর রহমান । অনেক ভুক্তভোগী বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনতে চান, কিন্তু ভয় বা সামাজিক চাপের কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখা হবে। প্রমাণ মিললে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দুর্নীতির বিষয়ে “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।
একাধিক সেবা প্রার্থী বলে জানিয়েছেন, “সরকার ডিজিটাল ভূমি সেবা চালু করেছে ঠিকই, কিন্তু মাঠপর্যায়ে কিছু কর্মকর্তা নিজের সুবিধা আদায়ের জন্য জনগণকে হয়রানি করে যাচ্ছেন।” ভূমি অফিসে এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে একাধিক বার ফোন দিলেও কোনো রকম বক্তব্য পাওয়া যায়নি ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) মাহবুবুর রহমানের।
• [স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জোরালো]
অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার দাবি জানিয়েছেন নাগরিক নেতারা। তাদের মতে, ভূমি অফিসে যদি স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হয়, তবে ‘ঘুষের দালান’ ভেঙে সমূলে সংস্কার ছাড়া বিকল্প নেই।
সর্বশেষ