আজকের খবর
রানা খান | নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনায় অবাধে ডিমওয়ালা মা মাছ ধরা ও বিক্রির কারণে দেশীয় নানা প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় পরিবেশকর্মী, জেলে ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো মাছশূন্য হয়ে পড়বে।
একসময় নেত্রকোনার নদী, খাল, বিল ও হাওরে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট, দখল, দূষণ, অতিরিক্ত কীটনাশক ও বালাইনাশকের ব্যবহার, সেচ দিয়ে পানি শুকিয়ে মাছ ধরা এবং বিষটোপ প্রয়োগের কারণে প্রাকৃতিক মাছের উৎস দিন দিন কমে যাচ্ছে। বর্তমানে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন হাটবাজারে অবাধে ডিমওয়ালা মা মাছ বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে “গ্রিন কোয়ালিশন” আটপাড়া উপজেলা কমিটির উদ্যোগে এবং বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সাংবাদিক, যুবক, জেলে, সাংস্কৃতিকর্মী, পরিবেশকর্মী ও সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।
আটপাড়া উপজেলা গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি সাজেদুর রহমান সেলিম বলেন, এলাকার বাজারগুলোতে প্রকাশ্যে ডিমওয়ালা মাছ বিক্রি হচ্ছে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মা মাছ ধরা ও বিক্রি বন্ধ করতে হবে।”
সংগঠনের সহসভাপতি সৈয়দ মো. মাকসুদুল হক বলেন,আমাদের নদী-হাওরগুলো এখন মাছশূন্য হয়ে যাচ্ছে। ডিমওয়ালা মা মাছ ধরা ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও তা বন্ধ হচ্ছে না।
জেলে সংগঠক যোগেশ চন্দ্র দাস বলেন,পানিতে মাছ না থাকলে আমাদের পেটে ভাত জোটে না। মা মাছকে আমরা সম্মান করি, ছেড়ে দিই। এই মা মাছই আমাদের পেশাকে টিকিয়ে রাখে।”
পরিবেশকর্মীরা জানান, এ বছর হাওর ও নদীতে আগাম পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছের প্রজননের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দেশীয় মাছের প্রজননের মৌসুম চলছে। এই সময়ে মা মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করা হলে আগামী দিনে মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমওয়ালা মাছ ধরা এবং রেণু পোনা নষ্ট হওয়ার কারণে সরপুঁটি, ভেদা, পাবদা, টেংরা, টাকি, পুটি, শিং, মাগুর, কৈ, খলিসা, বাউশ, কালবাউশ, গুলশাসহ অন্তত ২৪ প্রজাতির দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে রয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, দেশীয় মাছ রক্ষায় দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, বাজার তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডিমওয়ালা মা মাছ ধরা ও বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সর্বশেষ