কৃষি ও প্রকৃতি
নেত্রকোনা আটপাড়ায় পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত পাহাড়পুর এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে কৃষি প্রতিবেশবিদ্যা, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) আয়োজিত এ কর্মশালায় আটটি গ্রামের ৩২ জন কৃষক-কৃষাণী ও যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় কৃষি প্রতিবেশবিদ্যা, জলবায়ু ন্যায্যতা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক ধারণা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে কৃষি প্রতিবেশবিদ্যার চর্চার প্রয়োজনীয়তা, এলাকায় স্থিতিশীল ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কৌশল এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় মানুষের উদ্যোগ ও চর্চা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
কর্মশালাটি পরিচালনা করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বারসিক-এর কর্মকর্তা পার্বতী রাণী সিংহ ও সম্পদ ব্যক্তি মোহা. নাহিদিন আক্তার।
আলোচনায় পার্বতী রাণী সিংহ বলেন, “দ্রুত পরিবর্তনশীল জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে কৃষি ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের লোকায়ত জ্ঞান ও চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রকৃতি ও পরিবেশবান্ধব চর্চার মধ্য দিয়েই টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।”
মোহা. নাহিদিন আক্তার বলেন, “জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা ধরে রাখতে হবে। মাটি ও পরিবেশ ভালো থাকলে পরিবেশসম্মত উপায়ে কৃষিকাজ করে আমরাও সুস্থ থাকতে পারবো। কীটনাশকের বিকল্প তৈরি করে ব্যবহার করতে হবে এবং বেশি করে গাছ লাগাতে হবে।”
প্রবীণ কৃষক আব্দুল কাসেম বলেন, “বীজ ও মাটি আমাদের সম্পদ। এসব সম্পদ নষ্ট করলে বা হারিয়ে ফেললে আমরাই বিপদে পড়বো। নিজেদের কাছে বীজ সংরক্ষণ করতে পারলে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।”
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, আলোচিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এগুলোর ব্যাপক প্রচার ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।
সর্বশেষ