কৃষি ও প্রকৃতি
ময়মনসিংহে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা আর সেচ সংকটে ভোগা কৃষকদের মুখে এবার স্বস্তির হাসি, বলছি সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ও বোররচর ইউনিয়নের কথা। চলমান খাল খনন কর্মসূচিতে নতুন গতি এসেছে উপজেলা প্রশাসনের সরেজমিন পরিদর্শনে। মাঠে নেমে কাজের অগ্রগতি ও মান যাচাই করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি।
উপজেলার চকশ্যামরামপুর মৌজাসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে উপজেলা প্রশাসন খননকাজের বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন। কোথাও কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ, কোথাও মান নিশ্চিত করার কড়া বার্তা—সব মিলিয়ে পুরো কার্যক্রমে দেখা গেছে তৎপরতা ও দায়বদ্ধতা।
মাঠে উপস্থিত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খাল খনন শেষ হলে জমিতে সহজেই পানি সরবরাহ করা যাবে এবং বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসবে। এতে ফসল উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকদের আর্থিক সচ্ছলতাও উন্নত হবে বলে বিশ্বাস করেন মজিবুর রহমান।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল গফুর জানান, খাল খনন সম্পন্ন হলে সেচ সুবিধা বাড়বে, ফলে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যাও অনেকাংশে কমে আসবে। তারা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও কৃষিবান্ধব হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি বলেন, “এ প্রকল্প শুধু একটি খাল খনন নয়, এটি কৃষকের জীবিকা ও এলাকার অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে কাজ শেষ করতে হবে।
কৃষি অফিসার জুবায়রা বেগম সাথী বলেন, খাল খনন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে পুরো অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। সেচ সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ তামান্না হোরায়রা, উপজেলা প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, সমাজসেবা কর্মকর্তা মাকসুদা খাতুন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ও হামিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে চেয়ারম্যান আবু হানিফ সরকার, ইউপি সদস্য রুবেল মিয়াসহ অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ